শরীরে জ্বর নিয়ে চীন ফেরত শিক্ষার্থী হাসপাতালে

0
212

গায়ে জ্বর থাকায় চীন থেকে দেশে আসা এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই ব্যক্তি ঢাকায় পৌঁছান। এরপর বিমানবন্দরে স্থাপিত থার্মাল স্ক্যানারে তার জ্বর ধরা পড়ে। সেখান থেকে সরাসরি তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ওই ব্যক্তি চীন থেকে দেশে ফিরেছেন। তার গায়ে জ্বর ছিল। বিষয়টি থার্মাল স্ক্যানারে ধরা পড়ার পরপরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’

এই জ্বর করোনাভাইরাসের কারণে হয়েছে কিনা নিশ্চিত হতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে জানান তিনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের হেলথ সেন্টারের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রাথমিক কিছু লক্ষণ থাকায় চীন থেকে আসা এক বাংলাদেশিকে আমরা কুর্মিটোলা হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’

ডা. সাজ্জাত জানান, কোনো যাত্রীর শরীরে ১০০ ডিগ্রির ওপরে জ্বর থাকলেই স্ক্যানারে লালবাতি জ্বলে উঠছে। ২১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এমন পাঁচজন জ্বরের রোগী পাওয়া গেল। তবে তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন- তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, সাউদার্ন চায়না এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন ওই তরুণ। তিনি চীনের একটি প্রদেশে এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তবে তিনি চীনের উহান প্রদেশ থেকে আসেননি। শাহজালাল বিমানবন্দরে আসার পর থার্মাল স্ক্যানারে তার জ্বর ধরা পড়ে। ওই তরুণের শরীরের তাপমাত্রা ছিল ১০০ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।

বৃহস্পতিবার নিয়ে তিন দিন ধরে তার জ্বর রয়েছে। জ্বর থাকায় তাকে বিমানবন্দরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। সকালে তার শরীর থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে পরীক্ষার পর ওই তরুণের স্বাস্থ্যগত সমস্যা আছে কি না, এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ওই তরুণের বরাত দিয়ে সূত্রে জানা গেছে, চীনে তার দু’বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। সেখানে তার শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। চীন থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তিনি দেশে এসেছেন। তার জ্বর থাকলেও শ্বাসকষ্ট ছিল না। চীনে প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন তিনি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ২০ জানুয়ারি থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দরে ৩ হাজার ৬৫৪ জন যাত্রীকে থার্মাল স্ক্যানারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে। তবে বুধবারই প্রথম জ্বরাক্রান্ত এই রোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে।