মোদি হটাও স্লোগানে উত্তাল দিল্লির ঐতিহাসিক ম’সজিদ প্রাঙ্গন

0
186

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বি’রুদ্ধে আজও ভা’রতের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি রাজধানী নয়াদিল্লি বি’ক্ষোভকারীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে। নয়াদিল্লির প্রা’ণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক জামে ম’সজিদে শুক্রবার জুমআর নামাজের পর হাজার হাজার মানুষ বি’ক্ষোভ করেছেন। এ সময় দিল্লির আকাশ-বাতাস ‘মোদি হটাও’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।মু’সলিম’দের বি’রুদ্ধে বৈষম্যের বিধান রেখে দেশটির নতুন এই নাগরিকত্ব আইন ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে টানা বি’ক্ষোভ করছেন ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার দেশটিতে বি’ক্ষোভকারীদের ওপর গু’লি বর্ষণ করেছে পু’লিশ। গত কয়েকদিনের সং’ঘর্ষে অন্তত সাত বি’ক্ষোভকারী নি’হত হয়েছেন বলে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বি’ক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে বি’ক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছিল। কিন্তু পু’লিশ এতে বাধা দেয়ায় অন্যান্য দিনের মতো মুহূর্তেই এই বি’ক্ষোভ সাংঘর্ষিক রূপ নেয়। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর ম্যাঙ্গালুরুতে গতকাল বি’ক্ষোভকারীদের সঙ্গে সং’ঘর্ষে তিনজনের প্রা’ণহানির পর শুক্রবার সেখানে তিনদিনের কারফিউ জারি করা হয়েছে।ভা’রতের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ রাজ্য উত্তরপ্রদেশ কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।  বি’ক্ষোভকারীরা রাজ্য পু’লিশের একটি ভ্যান গাড়িতে অ’গ্নিসংযোগ করছেন। এ সময় বি’ক্ষোভকারীদের পাথর নিক্ষেপের জবাবে লা’ঠিচার্জ করে পু’লিশ।

ভা’রতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী সরকার গত ১১ ডিসেম্বর দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিতর্কিত সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন পাসের পর এই বি’ক্ষোভের শুরু হয়। ২০১৪ সালে দেশটিতে ক্ষমতায় আসার পর এমন তীব্র বি’ক্ষোভ এবং বিরোধিতার মুখে প্রথমবারের মতো পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।নতুন আইনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পা’কিস্তান এবং আ’ফগা’নিস্তান থেকে ভা’রতে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পার্সি এবং জৈন সম্প্রদায়ের সদস্যরা সে দেশের নাগরিকত্ব পাবেন। তবে এ আইনে মু’সলিম শরণার্থীদের ব্যাপারে একই ধরনের বিধান রাখা হয়নি।

সমালোচকরা বলেছেন, ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ধ’র্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ভা’রতে বিভাজন তৈরি করতে এ নতুন নাগরিকত্ব আইন তৈরি করেছে, যা ভা’রতের ধ’র্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।বিতর্কিত এই আইনে মু’সলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্বের ব্যাপারে কিছু না বলায় ভা’রতজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ-বি’ক্ষোভ শুরু হয়েছে। ভা’রতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ মু’সলিম।শুক্রবার দিল্লির জামে ম’সজিদে জুমআর নামাজের পর বি’ক্ষোভে যোগ দেয় সমাজের উচু জাত থেকে শুরু করে একেবারে নিম্নবর্গের দলিতরাও। ভা’রতে হিন্দুত্ববাদী জাতিভেদ অ’ত্যন্ত প্রকট।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, দিল্লির জামে ম’সজিদের সামনে নামাজের আগে থেকে পু’লিশ ও আধা সাম’রিক বাহিনীর শত শত সদস্য মোতায়েন করা হয়। নামাজ শেষে হাজার হাজার মানুষ বি’ক্ষোভে অংশ নেন। স্লোগানরত ৪২ বছর বয়সী শামীম কুরাইশি বলেন, এই আইন বাতিল না করা পর্যন্ত আম’রা ল’ড়াই চালিয়ে যাব। আম’রা পিছু হটবো না। বি’ক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধী স্লোগান দেন।

শুক্রবার দিল্লিতে অমিত শাহর বাসভবনের সামনে বি’ক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নারী শাখার সদস্যরা। দেশটির প্রখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী মোহাম্ম’দ শোয়াইবকে গ্রে’ফতার এবং মানবাধিকার কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত পু’লিশ কর্মক’র্তা এস আর দারাপুরিকে গৃহব’ন্দি করে রেখেছে পু’লিশ। উত্তরপ্রদেশের অন্তত ২০ জে’লায় শনিবার পর্যন্ত ইন্টারনেট এবং মোবাইলে বার্তা পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে।রাজ্যের কর্মক’র্তা আওয়ানীশ কুমা’র আওয়াষ্ঠি সরকারি এই আদেশ জারির পর এক বিবৃতিতে বলেছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন উসকানিমূলক বার্তার বিস্তার ঠেকাতে সরকার এই ব্যবস্থা নিয়েছে।

দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় শহর ম্যাঙ্গালুরুতে আগামী ২২ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পু’লিশ কর্মক’র্তা গুরু কামাত বলেছেন, ম্যাঙ্গালুরুতে সং’ঘর্ষে অন্তত ২০ পু’লিশ কর্মক’র্তা আ’হত হয়েছেন। পুরো শহরজুড়ে পু’লিশের অ’তিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে বেশ স্বাভাবিক রয়েছে। সবকিছু পু’লিশের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

সূত্র : রয়টার্স